তানজিল আহমেদ,ময়মনসিংহ।। ময়মনসিংহে পাহাড়সম দুর্নীতি-অনিয়মে সম্পৃক্ত দীর্ঘ সময় যাবৎ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশে কর্মরত এসআই আকরাম হোসেনকে দুইমাস আগে অন্যত্র বদলীর করার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন । জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তাকে বদলী করা হলেও যোগদান করেননি তিনি । উপরন্তু ডিবি পুলিশের দায়িত্ব পালন করে বাহিনীটির সুমান ক্ষুন্ন করে চলেছেন ।
অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ ডিবির পরপর ২জন ওসির সময়ে স্বদর্পে গ্রেপ্তার বাণিজ্যসহ পাহাড়সম অনিয়ম, গাফিলতি আর দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছেন আকরাম হোসেন। ময়মনসিংহ জেলাবাসী এই এসআইয়ের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ । ক্ষোভ বেড়েছে তাদের মাঝে ।
অভিযোগ রয়েছে, আকরাম হোসেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশে কর্মরত অবস্থায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনের সামনে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ কাজ করছেন । এছাড়াও জেলা সদরের পাশ্ববর্তী মুক্তাগাছা উপজেলায় শ্বশুর বাড়ি এবং জামালপুরের নান্দিনায় বোনের বাড়ি সংলগ্ন জমি- জমা কিনেছেন ।
তৎকালিন ডিবির ওসি আশিকুর রহমান ও ইমারত হোসেন গাজী ওসির সময়ে এসআই আকরাম হোসেন দায়িত্বে থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন । তাদের নিকট থেকে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা । জানা যায়, পুলিশ আইনে উল্লেখ আছে, কোন পুলিশ কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলে বাড়ি নির্মাণ করলে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অনুমতি নিতে হবে । এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বেআইনি কাজ করেছেন আইনের রক্ষক এসআই আকরাম হোসেন ।
মাদক কারবারিদের সাথে সখ্যতা তাদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের কারণে ডিবির ওসিদেরকেও বিতকিত করেছেন এসআই আকরাম হোসেন । আকরাম হোসেন ডিবিতে ডন আকরাম নামে অধিক পরিচিত । ২০১৭ সালে তৎকালীন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে মুক্তাগাছা থানায় বদলী করেন । এক সপ্তাহ ছুটিতে থেকে আবারও যোগদান করেন ডিবিতে ।
এসপি শাহ আবিদ হোসেনের সময়ে ২০১৮ সালে নানা কর্মকান্ডে অঘটন ঘটিয়ে ডিবি পুলিশকে বিতর্কিত করেন । ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের শাহানা আক্তার তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করেন । নারী অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে মাদকের অভিযোগে আকরাম গ্রেপ্তার করেন । ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন । আরো দুই লাখ টাকা দাবি করেন । অপারগতা প্রকাশ করায় মাদক মামলায় চালান দেন ।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কনস্টেবল আদালতে কর্মরত আলামিনকে ১২ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন । এঘটনায় আকরামের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে কনস্টেবল আলামিনের পিতা এসআই আকরামের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,পুলিশ হেডকোয়ার্টর্স , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করেন । জানা গেছে, এসআই আকরামের রয়েছে কমপক্ষে এক ডজন সিম কার্ড । মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে এসব নাম্বারে যোগাযোগ করেন । গোয়েন্দা তদন্ত করলেই রহস্য বেরিয়ে আসবে । তার কর্মকান্ডে জেলা পুলিশ সদস্যরাও ক্ষুব্ধ ।